Header Ads

Header ADS

৩য়/// ১৪ই ফেব্রুয়ারি ( বিশ্বভালবাসা দিবস ) বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে উৎপত্তির ইতিহাস। ৩য় পার্টঃ

৩য়/// ১৪ই ফেব্রুয়ারি ( বিশ্বভালবাসা দিবস ) বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে উৎপত্তির ইতিহাস। ৩য় পার্টঃ

৩য় পার্টঃ


এত দিন আমরা যা আলোচনা করেছি তা হল ভ্যালেন্টাইন ডের ইতিহাস। আজ থেকে যা আলোচনা করব তা হল, এনালাইসেস মূলক আলোচ।

বাস্তবতা ও ভ্যালেন্টাইন্স ডেঃ

১ম মে আসি ভ্যালেন্টাইন্স সম্পর্কে। ইতিহাস এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় আসলে ভ্যালেন্টাইন্স কে ছিল। অধো এনামে কেউ ছিল না তা এখন স্পষ্ট নয়। তার একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ হলঃ ভ্যালেন্টাইন্স সম্পর্কে আমরা যে সকল তথ্য পেলাম, তাকে তোথাও বলা হয়েছে খৃষ্টান পাদ্রী। আবার কোথাও বলা হয়েছে রোমানীয় ধর্ম যাজক। আবার কোথাও বলা হয়েছে রোমান দেবতার নাম। 
২য় কথা হল, যদি আমরা ধরে নি ভ্যালেন্টাইন্স আসলে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ছিলেন তবুও, আরো একটা সমস্যা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়, তা হল বলতেই হবে ভ্যালেন্টাইনের  মৃত্যু  ভালবাসার জন্য হয়নি। কারণ ভ্যালেন্টাইন্স কে বন্ধি হয়েছিল খৃষ্টান ধর্ম প্রচার করার জন্য। আর ভ্যালেন্টাইন্সের সাথে কারারক্ষীর কন্যার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল করাগারে।
৩য় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্সনের আসল নাম ছিল, ভ্যালেন্টাইন্স । ভ্যালেন্টাইন্স কে হত্যা করা হয় ২৬৯ খৃষ্টাব্দেে। তার মনের পূর্বেে সেন্ট যোগ করেন ৩৫০ খৃষ্টাব্দে কয়েকজন পাদ্রী। সেই সাথে যে স্থানে ভ্যালেন্টাইন্স কে হত্যা করা হয় সেখানে গির্জা তৈরি করা হয় তা ও ৩৫০ খৃষ্টাব্দেে। এতে বুঝা যাই তিনি খৃষ্টান পাদ্রী ও ছিলেন না।  
৪ র্থ যদি ভ্যালেন্টাইন্স কোন পাদ্রী না হয় তবে বলতে হবে তিনি ছিলেন প্রচিন রোমানীয় দেবতা। কিন্তু তা নয় কারণ, ভ্যালেন্টাইন্স ইতিহাসে তার কোন প্রমাণ মিলে না। প্রাচীন রোমানীয়রা যে দেবতার পূজা করত, তার নাম ছিল রোমান দেবতাদের রানী জোনো বা জুনো। আর ১৪ই ফেব্রুয়া, জুনোর সম্মানে ছুটি পালন করা হতো। ছুটির পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি লুপারকালিয়া ভোজ উত্সবে হাজারও তরুণের মেলায় র্যাফেল ড্র'র মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই কর। সূতরাং দেখা যায় যে এখানে ভ্যালেন্টাইন্সের নাম নেই অথঅথচ দিনটি পালন করতো। তাই তো বলি আসলে ভ্যালেন্টাইন্স কি মানুষ ছিল না সয়তান ছিল তার কোন উল্লেখযোগ্য প্রমাণ মিলছে না।

৫। ভ্যালেন্টাইন্স ডে হল খৃষ্টান ধর্মের ধর্মীয় উৎসব। যদিও তা ৩৫০ খৃষ্টাব্দে পাদ্রী কর্তৃৃক খৃষ্টান ধর্মের সাথে সংযোজিত হয়। তবু আমরা তাকে ধরে নিলাম এটা খৃষ্টানধর্মের। তবে কেন আমরা মুসলিম রা পালন করব?  

ভালবাসার স্বরূপঃ

আমাদের সমাজের এমন কোন মানুষ নেই, যে ভালবাসা শব্দের সাথে পরিচিত নয়। তাছাড়া আমাদের সমাজে ভালবাসার নামে প্রেমের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে। এরি আঘাতে গোটা সমাজ জর্জরিত। পুরা সমাজ ব্যাবস্থায় পাটল ধরেছে এই প্রেমের কারনে। পিতা-মাতার সাথে সন্তান সন্তুতির দ্বন্দ্ব , ভায়ে বোনে দ্বন্দ্ব , পরিবারে পরিবারে দ্বন্দ্ব প্রেমের কার। অথচ ভালবাসা হল পবিত্র। তাই এই সম্পর্কে সামান্য পরিসরে আলোচনা করা প্রয়োজন মানে করি।         
        
"ভালবাসা হল দুটি আত্মার মাঝ পারস্পরিক এমন এক টান, যা কোন ভাল গুন, সুন্দর্যের আকৃষ্ট হয়ে জন্মে। যার কারণে একে অপরকে কাছে টানে, যা আমদের সামাজিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে, যা আমদের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করে।"
ভালবাসা হক সর্বজনীন বিষয় এই ভালবাসার মাঝে কোন প্রকার মোহ বা চাহিদা থাকে না। এটা হল সম্পূর্ণ আত্মিক ব্যাপার। বলে কয়ে কোন দিন ভালবাসা হয়। যেমনঃ মা-সন্তানের ভালবা, ভাই-বোনে ভালবাসা, নামাজে একে অপরকে ভালবাসা।    

এই ভালবাসা আবার ২ প্রকার।
১। সর্বজনীন ভালবাসা, ২। বিশেষ ভালবাসা ।

সার্বজনীন ভালবাসাঃ 

সর্বজনীন ভালবাসা হল"ভালবাসা হল দুটি আত্মার মাঝ পারস্পরিক এমন এক টান, যা কোন ভাল গুন, সুন্দর্যের আকৃষ্ট হয়ে জন্মে। যার কারণে একে অপরকে কাছে টানে, যা আমদের সামাজিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে, যা আমদের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করে।"

বিশেষ ভালবাঃ

"বিশেষ জনের প্রতি আমাদের যে বিশেষ ভালবাসা, তাই হল বিশেষ ভালবাসা।"  
অথবা "ব্যক্তি ভেদে আমাদের যে ভালবাসা তাই বিশেষ ভালবাসা।" এর মাঝে সার্থ থাকতেও পারে, আবার না ও থাকতে পরে। যেমনঃ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা, প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে ভালবাসা। বিশেষ ভালবাসার অপর নাম প্রেম। 
প্রেমঃ "প্রেম হল একজন নারী ও একজন পুরুষের মাঝে এমন এক বিশেষ সম্পর্ক বা টান যা বিহের বন্ধন বা কোন বিশেষ গুন অথবা সুন্দর্যের কারণে আকৃষ্ট হয়ে সৃষ্ট, যা তাদেরকে একসাথে থাকতে বা ঘর বাঁধাতে উদ্ভুদ্ধ করে। এর মাঝে  থাকে কামনা ও বাসা সম্পৃক্ত থাকে।"   

প্রেম আবার ২প্রকার।

১। বৈধ প্রেমঃ "যে প্রেম বিবাহের পরে কেবলমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বার্তায়। "
২। অবৈধ প্রেমঃ  "যে প্রেম বিবাহ বহির্ভত একজন নারী ও একজন পুরুষ, একাধিক নারী-পুরুষের মাঝে বার্তার।" "এক কথায় বিবাহ বহির্ভুত প্রেম বা বিবাহের পূর্বে সকল রকম সম্পর্কই হল অবৈধ প্রেম।"

প্রেম ও ভালবাসার মাঝে প্রার্থক্যঃ


  • ভালবাসার মাঝে থাকে না কোন সার্থ। বিশেষ করে যৌন চাহিদা থাকে না। যেমনঃ বাবা-মা সাথে সন্তানের ভালবাসা, ভাই- বোনের মাঝে ভালবাসা, সন্তান-সন্তুতির প্রতি ভালবাসা। তাই তো আজ পর্যন্ত কেউ বলেনা আমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে প্রেম করি। 
  • আর পক্ষান্তরে প্রেমের মাঝে থাকে যৌন চাহিদা, থাকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন। যেমনঃ স্বামী-স্ত্রীর, প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে প্রেম।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্রেম ও ভালবাসার মাঝে রয়েছে ব্যাপক প্রার্থক্য। যার সাথে প্রেম করা যায় তাকে আবার ভালবসাও যায়, কিন্তু যাকে ভালবাসা যায় তাকে ভালবাসা যায়।

(যদিও ইচ্ছে ছিল আজকে শেষ কারার, কিন্তু না, আমার সময় সল্পতার কারণে পারলামনা। তার জন্য আমি দুঃখিত। তবে শেষ করব। ইংশা-আল্লাহ )


চলবে...........ইনশা-আল্লাহ!!!!!!


No comments

Theme images by Deejpilot. Powered by Blogger.