ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফাহ (রহ.) এর সূত্রে বর্ণিত ২০ রাকাআতের রেওয়ায়েতে এক নজরঃ
ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফাহ (রহ.) এর সূত্রে বর্ণিত ২০ রাকাআতের রেওয়ায়েতে এক নজরঃ
২০ রাকাআত তারাবীহ’র যত হাদিস দুনিয়াতে আছে সবকটাই মাজরুহ। অর্থাৎ একটাও সহিহ নয়। তবে একটি মাত্র রেওয়ায়েত পাওয়া যায় যা বাহ্যত সহিহ, কিন্তু অগ্রহনযোগ্য। যেটি আলী ইবনুল যাআদ বিন উবায়দ আল বাগদাদী (মৃ-২৩০) স্বীয় মুসনাদে উল্লেখ করেছেন। সুনানে বায়হাক্বীতেও এসেছে। হাদিসটি হলো-
حدثنا علي أنا بن أبي ذئب عن يزيد بن خصيفة عن السائب بن يزيد قال : كانوا يقومون على عهد عمر في شهر رمضان بعشرين ركعة وإن كانوا ليقرءون بالمئين من القرآن
“সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত ওমর (রা.) এর যুগে রমযান মাসে লোকজন বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়তেন এবং তারা (প্রতি রাকাআতে) একশ’ আয়াত করে তেলাওয়াত করতেন।” (মুসনাদে ইবনুল যাআদ-হা/২৮২৫, বায়হাক্বী-হা/৪৩৯৩)
বর্ণনাটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে সহিহ মনে হলেও অন্তত ৩টি কারণে এটি আমলযোগ্য নয়।
১। শায হওয়ার কারণে। উল্লেখ্য, কোন গ্রহনযোগ্য রাবী তাঁর থেকেও অধিক গ্রহনযোগ্য রাবীর বিপরীতে কোন হাদীস বর্ণনা করলে উসূলে হাদীসের মানদন্ডে তাকে শায বলা হয়। যেমন- ان الشاذ: مخالفة المقبول لمن هو أولى منه
২। সহিহ মরফূ’র বিপরীত হওয়ার কারণে। উসূল হলো মরফূ তথা রাসুলুল্লাহ (সা.) কথা, আমল বা সমর্থনের বিপরীতে মওকূফ তথা কোন সাহাবীর কথা বা আমল গ্রহনযোগ্য নয়।
৩। একজন মারাত্মক আকিদাধারী শিয়া রাবীর কারণে।
বর্ণনাটি শায হওয়ার কারণে আমল যোগ্য নয়ঃ
এই বর্ণনাটি শায হওয়ার ৩টি কারণ রয়েছে। তার প্রথম কারণ হলো-
হাদিসের রাবী ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) যিনি সাহাবী সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে এটি রেওয়ায়েত করেছেন, তিনি নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে প্রকৃত রাকাআত সংখ্যার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান ছিলেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) আমাকে একুশ রাকাআতের কথা বলেছিলেন। যেমন ইমাম আবু বকর নিশাপুরী (রহ.) (মৃ-৩২৪) বর্ণনা করেন-
حدثنا يوسف بن سعيد ثنا حجاج عن ابن جريج حدثني اسماعيل بن امية ان محمد بن يوسف ابن اخت السائب بن يزيد اخبره
ان السائب بن يزيد اخبره قال جمع عمر بن الخطاب الناس علي ابي بن كعب و تميم الداري فكانا يقومان بمائة في ركعة فما ننصرف حتي نرا او نشك في فروع الفجر قال فكنا نقوم باحد عشر
قلت: او واحد وعشرون؟
قال لقد سمع ذالك من السائب بن يزيد ابن خصيفة فسألت يزيد بن خصيفة فقال حسبت ان السائب قال احد وعشرون
(فوائد ابي بكر النيسابوري- ص/135)
“সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) লোকজনকে উবাই ইবনে কা’ব ও তামিম আদ দারী (রা.) এর পেছনে জামাআতবদ্ধ করে দিলেন। অতঃপর তারা উভয়ে একেক রাকাআতে একশ’ আয়াত করে তেলাওয়াত করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা দেখতাম অথবা সন্দেহ হতো যে ফযর হয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তারাবীহ পড়া থেকে বিরত হতাম না। সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) বলেন, আমরা তারাবীহ এগারো রাকাআত পড়তাম।
{মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) থেকে এই হাদিস শুনার পর} রাবী ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ বলেন- এগারো রাকাআত নাকি একুশ রাকাআত?
মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) বলেন, ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) থেকে এ রকমই শুনেছেন। অতঃপর আমি (ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ) ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) একুশ রাকাআতের কথা বলেছিলেন।”
এখানে ইউসূফ ইবনে সাঈদ (রহ.) ব্যতীত প্রত্যেকেই সহিহায়নের রাবী। ইউসূফ ইবনে সাঈদ তিনিও ছিকাহ। ইবনে জুরায়েয মুদাল্লিস, তবে এখানে তার তাহদীস সুস্পষ্ট। সুতরাং সনদ সহিহ।
লক্ষ্য করুনঃ
(ক) যখন রাবী ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ স্বীয় উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) কে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, ঐ রাকাআত সংখ্যাটা কি এগারো হবে নাকি একুশ? মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) বলেন, ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) ওটাকে একুশ রাকাআত বলেছেন। তারপর ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ সরাসরি এ বিষয়ে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) কেই প্রশ্ন করেন। আর ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) বলেন আমার মনে হয় সায়িব (রা.) আমাকে একুশ রাকাআতের কথা বলেছিলেন।
এই যে আমার মনে হয় (حسبت) কথাটি দ্বারা কি এই কথা প্রমাণিত হয় না যে, তিনি সেটা ভালভাবে মনে রাখতে পারেন নি? অথবা ভুলে গিয়ে পরে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন? তা নাহলে তিনি نعم ان السائب قال احد وعشرون (হ্যাঁ, সায়িব (রা.) আমাকে একুশ রাকাআতের কথা বলেছিলেন) না বলে حسبت ان السائب قال احد وعشرون (আমার মনে হয় সায়িব (রা.) আমাকে একুশ রাকাআতের কথা বলেছিলেন) কেন বলবেন? বাস্তবেই ইবনে খুসাইফাহ (রহ.) যখন মুখস্থ কোন হাদীস বলতেন তখন তিনি বেশির ভাগই ভুলের শিকার হতেন। সামনে আসছে।
(খ) যদি এখানে মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) ভুল করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই স্মরণ করিয়ে দেবার পর এগারো রাকাআত বলা থেকে ফিরে আসতেন। উপরন্তু তিনি তাঁর সাতজন ছাত্রকে ঐ এগারো রাকাআতই বলেছেন।
যাঁরা যাঁরা সরাসরি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) থেকে হুবহু এগারো রাকাআতের হাদিস রেওয়ায়েত করেছেন তাঁরা হলেন-
১. ইমাম মালেক (রহ.) (মৃ-১৭৯)
২. ইমাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান (রহ.) (মৃ-১৯৮)
৩. ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ বিন আমর (রহ.) (মৃ-১৪৪)
৪. আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দ (রহ.) (মৃ-১৮৬)
৫. ইসমাঈল বিন জাফর বিন আবি কাছির আল আনসারী (রহ.) (মৃ-১৮০)
৬. ইমামুল মাগাযী মুহাম্মদ বিন ইসহাক (রহ.) (মৃ-১৫০)
৭. উসামা বিন যায়িদ আল লাইছি আল মাদানী (রহ.) (মৃ-১৫৩)
সুতরাং বলা যায়, মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) নিশ্চিতভাবে এগারো রাকাআতেই অটল ছিলেন এবং ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফাহ (রহ.) রাকাআত সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না, বরং সন্দিহান ছিলেন।
শায হওয়ার দ্বিতীয় কারণঃ
ইমাম মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) স্মরণ ও সংরক্ষণে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) এর তুলনায় অধিক শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। কেননা, পৃথিবীতে এমন একজন মু’তামাদ মুহাদ্দিছও নেই যিনি মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) এর স্মরণশক্তির ব্যাপারে জারাহ (সমালোচনা) পেশ করেন নি। পক্ষান্তরে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) এর স্মরণশক্তির ব্যাপারে জারাহ তথা সমালোচনা রয়েছে। যেমন-
* আবুল হাজ্জাজ মিয্যী (রহ.) স্বীয় ‘তাহযীবুল কামাল’এ এবং ইমাম যাহাবী (রহ.) স্বীয় ‘মিযানুল ই’তিদাল’এ উক্ত রাবী সম্পর্কে উল্লেখ করেন-
عن أبي داود قال احمد منكر الحديث
“ইমাম আবু দাউদ (রহ.) হতে, ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন তিনি মুনকারুল হাদিস।” (তাহযীবুল কামাল-৩২/১৭৩, মিযানুল ই’তিদাল-৪/৪৩০)
উল্লেখ্য, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) (মৃ-২৪১) রাবীর কারণে মুনকার বলেন নি, মুনকার বলেছেন রেওয়ায়েতে একক হওয়ার কারণে।
* ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) (মৃ-৩৫৪) বলেন-
وكان يهم كثيرا إذا حدث من حفظه
“তিনি যখন মুখস্থ কোন হাদিস বর্ণনা করতেন তখন অনেক ভুলের শিকার হতেন।” (মাশাহিরু উলামাইল আমছার-১/২১৬)
এখানে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) সম্পর্কে এই সমস্ত জারাহ পেশ করার উদ্দেশ্য তাঁকে হাদীসে দূর্বল প্রমাণ করা নয়। বরং এটাই বুঝানো উদ্দেশ্য যে তিনি ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য), তবে মুহাম্মদ বিন ইউসূফের চেয়ে স্মরণশক্তিতে কম শক্তিশালী। যেমন দুইজন মেধাবী ছাত্রের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে এই ছাত্রের তুলনায় ঐ ছাত্র আরো বেশি মেধাবী। অর্থাৎ দু’জনই মেধাবী। অথবা বলা যায় দু’জনই জিপিএ-৫, কিন্তু একজন গোল্ডেন, আরেকজন নন গোল্ডেন। অবশ্য সহিহায়নে দু’জনেরই জায়গা হয়েছে।
শায হওয়ার তৃতীয় কারণঃ
সাহাবী সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) হতে মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) এগারো রাকাআত সংক্রান্ত যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাতে সরাসরি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- হযরত ওমর (রা.) অমুক অমুককে এগারো রাকাআত তারাবীহ পড়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। পক্ষান্তরে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) এর হাদিসে ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন- হযরত ওমর (রা.) এর যুগে লোকজন বিশ রাকা্আত তারাবীহ পড়তো। সত্যতা ও নির্ভরতার দিক থেকে ইতিহাসের চেয়ে সরাসরি ঘটনা অগ্রাধিকার পাবার দাবিদার।
বর্ণনাটি সহিহ মরফূ’র বিপরীত হওয়ার কারণে আমলযোগ্য নয়ঃ
ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) এর উক্ত রেওয়ায়েতটি আম্মাজান আয়িশা (রা.) হতে সহিহ বুখারীতে বর্ণিত এগারো রাকাআত ওয়ালী হাদিস, সহিহ ইবনে খুযাইমাহ ও সহিহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হযরত জাবের (রা.) হতে বিতর ব্যতীত আট রাকাআতের হাদিস এবং ইত্তেহাফুল খিয়ারাহ গ্রন্থে বর্ণিত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) হতে বর্ণিত আট রাকাআতের হাদিস সমূহের বিপরীত। যেগুলো মরফূ তথা সরাসরি হাদিসে রাসূল (সা.)। আর যেহেতু ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) এর রেওয়ায়েতটি মওকুফ তথা আছারে সাহাবা (রা.), তাই হানাফীদের উসূল অনুযায়ীও এটি গ্রহনযোগ্য নয়। কারণ খোদ হানাফীরাও মরফুর বিপরীতে মওকুফ গ্রহন করেন না। অর্থাৎ হানাফীদের নিকট সাহাবীদের কথা ও আমল হুজ্জত (দলিল) নয়। যেমন-
(ক) খলিল আহমদ সাহারানপুরি দেওবন্দী লিখেছেন-
وهو مذهب صحابي لا يقوم به حجة علي أحد
“এটি হলো সাহাবীর মাযহাব, যা কারোর জন্য দলীল/হুজ্জাহ নয়।” (বাযল আল-মাজহুদ, ৫/৩৯ হা. ৮২১)
(খ) মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী বলেন-
لہٰذا اس کا صحیح جواب یہ ہے کہ یہ حضرت ابن عمر کا اپنا عمل اور اجتہاد ہے، احادیث مرفوعہ میں اس تفریق کی کوئی بنیاد مروی نہیں، نیز صحابی کا اجتہاد حجت نہیں، خاص طور سے جبکہ اس کے بالمقابل دوسرے صحابہ کے آثار اس کے خلاف موجود ہوں
“অতএব, এর সঠিক উত্তর হল যে এটা ইবনে উমর (রা.) এর ব্যক্তিগত আমল এবং ইজতিহাদ, মারফু হাদীসে বর্ণিত বিষয়কে এটা আলাদা করে না, তদুপরি, সাহাবীর ইজতিহাদ দলীল নয়, বিশেষ করে যেখানে এর বিপরীত আছার সাহাবী থেকে বর্তমান রয়েছে।” (দরসে তিরমিযী ১/১৯১)
(গ) মাওলানা শিবলী নোমানী লিখেন-
“অথচ এই শব্দগুলো এই অর্থে অকাট্য দলিল নয়; বরং সাহাবীর নিজস্ব ধারণা এবং ইজতিহাদ যা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া হয়েছে। অথচ সাহাবীর বুঝ হুজ্জত নয়।” (সিরাতুন নোমান, পৃঃ ১৩৮)
(ঘ) সরফরায খান সফদর কারমাঙ্গি গাখরাভি লিখেছেন-
“হযরত উবাদাহ বিন সামিত (রা.) এটি সঠিক ভাবে বুঝতে পারুন আর না পারুন, এটা সত্যি যে হযরত উবাদাহ বিন সামিত ইমামের পিছনে মুক্তাদি সূরা ফাতিহা পাঠ করবে সে মতের একজন ছিলেন। তাছাড়া এটা ছিল তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ এবং নিজস্ব মাসলাক তথা মাযহাব, কিন্তু একজন সাহাবার বুঝ অথবা একজন সাহাবার মাওকূফ দলীল নয়।” (আহসান উল কালাম, ২/১৫৬)
(ঙ) তিনি আরো বলেন-
“হযরত আবূ হুরাইরাহ (রা.) এর রেওয়ায়েত যেটি মুবারকপুরী সাহেব শুধু সুরা ফাতিহা পড়ার যথার্থতার দলীল রূপে উপস্থাপন করেছেন, তা এই ব্যাপারে কোন দলীল সাব্যস্ত হতে পারে না, কারণ এটা হযরত আবূ হুরাইরাহ (রা.) এর মাওকুফ বর্ণনা, যা কোন মারফূ ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয় নি।” (আহসান উল কালাম, ২/৩২)
(চ) সাইয়িদুনাহ আবূ হুরাইরা (রা.) ফযরের সলাতে কুনুত পড়তেন। এই সত্য কথাটির উপর মন্তব্য করতে গিয়ে মুহাম্মদ তাকী উসমানী আরো লিখেন-
“এই বর্ণনাটি মাওকুফ, তাই এতে কোন দলীল নেই।” (দরসে তিরমিযী-২/১৬৯)
একজন মারাত্মক আকিদাধারী শিয়া রাবীর কারণে বর্ণনাটি গ্রহনযোগ্য নয়ঃ
আলোচ্য বর্ণনাটিতে একজন রাবী রয়েছেন যার নাম হলো আলী ইবনুল যাআদ। ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। তবে তা মুতাবাআতের ভিত্তিতে। সহিহ বুখারীতে এ রকম আরো অনেক রাবী রয়েছে যারা শিয়া হওয়া সত্ত্বেও মুতাবাআতের ভিত্তিতে সহিহ বুখারীতে জায়গা পেয়েছে। অর্থাৎ তাদের সেসব বর্ণনাগুলো ইমাম বুখারী (রহ.) এর নিকট মজুদ থাকা অন্য সহিহ হাদীসের অনুকূলে ছিল। কাজেই এসব রাবীর বর্ণনা যেগুলো সহিহ বুখারীতে স্থান পেয়েছে সেগুলো নিয়ে আপত্তি করা জায়েয নেই। কিন্তু এর বাইরের বর্ণনাগুলো (কোন সহিহ শাওয়াহেদ পাওয়া না গেলে) পরিত্যাজ্য। এটা মানতে যাদের কষ্ট হবে তাদের জন্য আলী ইবনুল যাআদের একটি বর্ণনা দৃষ্টান্ত হতে পারে-
وسمعت ابا عبد الله وقال له دلويه سمعت علي بن الجعد يقول : مات والله معاوية علي غير الاسلام
“আমি আলী ইবনুল যাআদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- আল্লাহ’র শপথ! মুয়াবিয়া অমুসলিম অবস্থায় মরেছে।” (মাসায়েলে ইমাম আহমদ খন্ড-২, পৃঃ- ১৫৪) কমেন্টে স্ক্যানপেজ দেখুন।
বর্ণনা শতভাগ সহিহ। এখানে আলী ইবনুল যাআদ একেবারে আল্লাহ’র নামে শপথ করে বলেছেন যে মুয়াবিয়া (রা.) অমুসলিম অবস্থায় মারা গেছেন। নাউযুবিল্লাহ। এখন যারা ২০ রাকাআতের পক্ষে আলী ইবনুল যাআদের বর্ণনাকে দলিল বানিয়ে রেখেছেন তারা কি মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে উপরোক্ত আকিদা রাখেন? অবশ্যই না। কাজেই বুঝা গেল আলী ইবনুল যাআদের এই বর্ণনাটি অগ্রহনযোগ্য, অনুরূপ ২০ রাকাআতের ঐ বর্ণনাটিও।
অতএব, খুলাসা এই যে ইয়াযীদ বিন খুসাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত ২০ রাকাআতের হাদিস প্রথমত তাঁর থেকেও অধিক মকবুল রাবী মুহাম্মদ বিন ইউসূফ (রহ.) এর হাদিসের বিপরীত হওয়ায় শায, দ্বিতীয়ত সহিহ মরফূ’র বিপরীত হওয়ায় অগ্রহনযোগ্য। তৃতীয়ত উক্ত বর্ণনায় একজন মারাত্মক আকিদাধারী শিয়া রাবী থাকার কারণে বর্ণনাটি পরিত্যাজ্য। প্রকৃতপক্ষে ২০ রাকাআতের পক্ষে কোন সহিহ হাদীস নাই।
No comments