Header Ads

Header ADS

হোসেন কোরআনীর মুখোশ উম্মোচন।/// 4র্থ পার্ট///150 বছর বাঁচব বললে কি শিরিক হয়ে যাবে? বেদায়াত হয়ে যাবে? গুনাহ হয়ে যাবে?

হোসেন কোরআনীর মুখোশ উম্মোচন।/// 4র্থ পর্ব// অতি সাম্প্রতিক একজন ধর্ম প্রচারকারী, যিনি নিজেকে সবচাইতে বেশি জানেন বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেছেন যে তিনি একশত পঞ্চাশ বছর বাঁচবেন তার এই দাবি কতটুকু শরীয়ত সম্মত?


গত কয়েকদিন ধরে আমরা হোসেন কোরআনীর মুখোশ উম্মোচন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছিলাম। গত কয়েকটি পর্বে আলোচনা করেছিলাম মানুষ কি শারীরিক কন্ডিশনে উপর নির্ভর করে বাঁচে? আত্মা বা রুহ কি? ইসলামে আত্মা এবং রোগ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে? মানুষের হায়াত কি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত? তাকদীর অস্বীকার কারীর পরিণাম। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা আলোচনা করব 150 বছর বাসবো দাবি করলে কি শিরিক হয়ে যাবে? কোন গুনাহ হবে কি?





6: 150 বছর বাঁচব বললে কি শিরিক হয়ে যাবে? বেদায়াত হয়ে যাবে? গুনাহ হয়ে যাবে?


ক; গায়েব জানার দাবিঃ 

মানুষ কতদিন বাঁচবে এটা একটি গায়েবের এলেম। এটাকে বলা হয় "মাফাতিহুল গায়েব।" যা কেবলমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সীমাবদ্ধ। এই কথাটা মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সূরা আনআমের বলেছেন তিনি ছাড়া কেউ জানে না। গায়েবের জ্ঞান একমাত্র মহান আল্লাহর জ্ঞানের সীমাবদ্ধ। গায়ের জানা এই গুণটি কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট যেমনটি তিনি পবিত্র কোরআন এরশাদ করেছেন।



ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَ الشَّہَادَۃِ ۚ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ ﴿۲۲﴾ 

 

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। ( সূরা ৫৯. আল-হাশর আয়াত নং ২২ )



ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ 


আল্লাহ্‌, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব , সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর । কে সে , যে তাঁর অনুমতি বেতিত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে ? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন । আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোন কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না । তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।




সূরা হাশরের 22 আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সিরাত সম্পর্কে ইরশাদ করেনঃ


عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَ الشَّہَادَ


"তিনি হলেন গায়েবের জ্ঞানের অধিকারী, আর তিনি প্রকাশ্য জ্ঞানের অধিকারী"



সূরা বাক্বারার 255 নং আয়াতে মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালার তার সিরাত সম্পর্কে ইরশাদ করেনঃ


يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْۖ


"আর তিনি জানেন, তোমাদের অগ্রে এবং পাশ্চাত্যের বিষয়ে"



আলোচ্য আয়াত এই কথা প্রমাণ করে যে, গায়েব জানা মহান আল্লাহর সিফাত বা গুন। যদি কেউ এই  নিজেকে এই গুণান্বিত দাবী করে, তাহলে সে আল্লাহর সাথে শিরক করল। 



এখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন, তিনি আল্লাহ চিনি ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি অদৃশ্য জগতের জ্ঞানের অধিকারী। সুতরাং অদৃশ্য জ্ঞান একমাত্র মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে সীমাবদ্ধ যা  কোরআন হাদিস থেকে স্পষ্ট।



খ; আল্লাহ্ র সিফতের দাবিঃ (মাফাতিহুল গাইব জানার দাবি )


মাফাতিহুল গায়েব হল, এমন জ্ঞান যা কেবলমাত্র মহান জ্ঞানী সীমাবদ্ধ। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন।



وَعِندَهُۥ مَفَاتِحُ ٱلْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَآ إِلَّا هُوَۚ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِۚ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِى ظُلُمَٰتِ ٱلْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِى كِتَٰبٍ مُّبِينٍ 


আর গায়েবের চাবি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত রয়েছেন, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই। ( সূরা আনআম, আয়াতঃ 59 বা 6:59)




إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلْمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلْأَرْحَامِۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًاۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۢ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۢ 


নিশ্চয় আল্লাহ্, তাঁর কাছেই রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা মাতৃগর্ভে আছে। আর কেউ  জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন্‌ স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয় আল্লাহ্  সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। ( সূরা লোকমান 34, বা 31:34 )



সূরা আনআমের 59 নাম্বার আয়াতে আল্লাহতালা বলেছেন, অদৃশ্য জগতের চাবিকাঠি রয়েছে আল্লাহ তাআলার নিকট, তিনি ব্যতিত আর কেউ এটা জানে না। আল্লাহ বলছেন, অদৃশ্য জগতের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি দাবী করেন যে, তিনি অদৃশ্য জগতের জ্ঞান রাখেন, তাহলে নিশ্চিত রূপে জেনে রাখ যে মিথ্যাবাদী ও মুশরিক। কেননা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলছেন, তিনি ছাড়া এই বিষয়ে কেউ জানে না। এখন কেউ যদি এ বিষয়ে জানার দাবী করেন, তাহলে পরোক্ষভাবে সে আল্লাহতালাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল। যেহেতু আল্লাহতালা মিথ্যাবাদী নন, সেহেতু এই অদৃশ্য বিষয় জানার দাবী করবে, নিশ্চিত জেনে রাখ যে সেই লোক মিথ্যাবাদী। 



এখন কতগুলো এই তালাবদ্ধ বা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান গুলো কি, কি? এই সম্পর্কে জানতে হলে, আমাদেরকে সূরা লোকমানের 34 নাম্বার আয়াতের দিকে তাকাতে হবে। সূরা লোকমানের 34 নম্বর আয়াত যদি আমরা লক্ষ্য করি, আমরা দেখতে পাবো যে, সেখানে মহান আল্লাহতালা পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করেছেন।


এক নাম্বারঃ কিয়ামত কখন হবে, দুই নম্বরঅঃ বৃষ্টি কখন হবে, তিন নাম্বারঃ মাতৃগর্ভে কি আছে, চার নাম্বারঃ আগামীকাল মানুষ কি কামাই করবে, পাঁচ নাম্বারঃ মানুষ কোন জমিনে মারা যাবে। এই পাঁচটি বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে তালাবদ্ধ জ্ঞান অথবা মাফাতিহুল গায়েব। অর্থাৎ এমন গায়েবের এলেম যা কেবল আল্লাহর জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা।



যে কারণে আমরা এখন উপস্থাপন করেছি, সেটি হলো আল্লাহ বলছেন, মানুষ কোন জমিনে মারা যাবে একই আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না কিন্তু যদি কেউ বলে, তিনি এ বিষয়ে জানেন তাহলে তিনি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেন। তাই তিনি সর্বোচ্চ যালেম। 




এখন কথা হল, কেউ যদি নিজেকে আল্লাহর গুনে গুণান্বিত করে অথবা কেউ যদি দাবী করে সে আল্লাহর গুনে গুণান্বিত অথবা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করে, তাহলে সে নিশ্চিত রূপে আল্লাহর উপর কুফরী করেছে। যেমনটি মহান আল্লাহতালা সূরা আল কাহাফ এ 15 নাম্বার আয়াতে বলছেন, তার থেকে আর কে জালিম হতে পারে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে।



ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمُنَا اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً ؕ لَوۡ لَا یَاۡتُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ بِسُلۡطٰنٍۭ بَیِّنٍ ؕ فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ﴿ؕ۱۵﴾ 



এরা আমাদের কওম, তারা তাঁকে ছাড়া অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। কেন তারা তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? অতএব যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? -(আল-বায়ান) ( সূরা ১৮. আল-কাহফ আয়াত নং ১৫ )



সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি এই অদৃশ্য জগতের জ্ঞানের জানার দাবী করে, তাহলে কুরআনের মতে সে হলো সর্বোচ্চ জালেম। যেহেতু সর্বোচ্চ জুলুম হলো শিরিক যেমন টি লোকমান আঃ তার সন্তানকে বলেছেন,



وَ اِذۡ قَالَ لُقۡمٰنُ لِابۡنِہٖ وَ ہُوَ یَعِظُہٗ یٰبُنَیَّ لَا تُشۡرِکۡ بِاللّٰہِ ؕؔ اِنَّ الشِّرۡکَ لَظُلۡمٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱۳﴾ 


 

আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলম'। -(আল-বায়ান) (সূরা  লুকমান ৩১, আয়াত ১৩ )



এখানে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তার চেয়ে আর কে জালিম হতে পারে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে। সূরা লোকমানের বলা হচ্ছে, নিশ্চয়ই শিরিক হচ্ছে সর্বোচ্চ জুলুম। আল্লাহ বলছেন, আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করা চেয়ে কে আর জালেম হতে পারে? এ থেকে বুঝতে পারি যে, আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করা সর্বোচ্চ গুনা বা শিরিক। কেননা শিরিক হল সর্বোচ্চ গুনাহ।


আজকে পর্যন্ত পরবর্তীতে আমরা বাকি অংশ ইনশাআল্লাহ আমরা পার্বতী কে প্রকাশ করা হবে।







ইউটিউব থেকে এই বিষয়ে ভিডিও দেখতেচাইলে
 লিংকে ভিজিট করুন!











No comments

Theme images by Deejpilot. Powered by Blogger.